শুক্রবারের ফজিলত ও বিশেষ আমল।

1
92

লেখা : হাফেজ আব্দুল মুকিত সাহেব।

জুম’য়া বার বা শুক্রবার, এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহিক ‘ঈদ’,বা উৎসবের দিন !! এই দিনকে “ইয়াওমুল জুমা” বলা হয়,।
আল্লাহ তাঅা’লা নভোমণ্ডল, ভূমন্ডল ও গেটা জগৎ ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন!! এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুমার দিন, এই দিনেই হজরত আদম(আঃ) সৃজিত হন।এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। কেয়ামত এই দিনেই সংঘটিত হবে।

ইসলামে জুমার গুরুত্ব অপরিসীম!!

*আল্লাহপাক কোরান পাকে ইরশাদ করেন ‘হে মুমিনগণ জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশেও দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর’। (সূরা জুমা, আয়াত নং-৯।)

*জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ন আমল সম্পর্কে হজরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি জুমার দিন আসর নামাজ পর না উঠে ওই স্থানে বসে ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে,তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে,৮০ বছরের নফল ইবাদত সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। দরুদ শরিফ টিঃ= আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদানিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওসাল্লিম তাসলিমা “”

জুমআর দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে আরো অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল।
এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য আমল সামুহঃ=
**জুমআর দিনে ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা।।( পবিত্র কুরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নং সুরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।)

ফজিলত- যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত নূর হবে।(সুবহানাল্লাহ)

– যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে আটদিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।(সুবহানাল্লাহ)

– এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার সব (কবিরা গোনাহ ব্যতিত) গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।(সুবহানআল্লাহ)

আমল
**জুমআর দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ।

ফজিলতঃযদি কোনো ব্যক্তি একবার দরূদ পড়ে তবে তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল হয়।(সুবহানাল্লাহ)

আমল
**জুমার নামাজের পূর্বে দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা।

আমল
**সূর্য ডোবার কিছুক্ষন আগ থেকে সূর্যস্ত পর্যন্ত গুরুতের সাথে জিকির,তাসবিহ, ও দোয়ায় লিপ্ত থাকা।

এছাড়াও অনেক আমল রয়েছে। (যে গুলো আপনাদের কে পর্ব পর্ব ভাবে জানানো হবে ইনশাআল্লাহ)

কিন্তু আমরা দুঃখের সাঙ্গে লক্ষ্য করছি, বর্তমানে জুমার আমল সুমহ মুসলমানদের কাছে অবহেলিত। আজানের পরও মসজিদ গুলো ফাঁকা থাকে। খুতবার শেষ পর্যায়ে তড়িঘড়ি করে মুসল্লীরা মসজিদে প্রবেশ করে, এরূপ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।

তাই জুমার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা সব মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব।
যাদের মধ্যে ঈমানের সামান্যতম চেতনা রয়েছে তারা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন জুমাকে এমন অবহেলা করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন আমিন।

– ইসলামী বিশিষ্ট চিন্তাবিদ –
কলামিস্ট ই-বাংলা নিউজ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here